1. admin@crimeupdate24.com : admin :
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কুড়িগ্রামে ৫৬১ মণ্ডপে আনসার-ভিডিপির নিরাপত্তা জোরদার খুলনায় পানি ও স্যানিটেশন সেবার অগ্রগতি ধরে রাখতে সমন্বিতভাবে কাজ করার উদ্যোগ নাগেশ্বরীতে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর, থানায় সাধারণ ডায়েরি। নাগেশ্বরীতে আওয়ামী লীগের দাপটে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: থাই ব্যবসায়ীর পাওনা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ এনসিপি নেতা কাফির বিরুদ্ধে মামলা। কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীরকে হত্যার ঘটনায় আটক পাঁচ আসামীকে পাঁচদিন করে রিমান্ড দিয়েছে আদালত। মিঠামইনে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরষ্কার বিতরণ। কিশোরগঞ্জের হাওরে শিশুর মরদেহ বহনকারী ট্রলারে ডাকাতি। মাদক বিক্রেতাকে ধরতে গিয়ে নিজেই এখন জেল হাজতে।

নামে মাত্র প্রানীসম্পদ সেবা সপ্তাহ ও প্রদর্শন সাংবাদিকদের প্রশ্ন শুনে পালালেন ইউএনও সহ কর্মকর্তা

  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৪
  • ৯৮ বার পঠিত

ডেক্স রিপোর্ট
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায়
নামে মাত্র চলছে প্রানীসম্পদ সেবা সপ্তাহ ও প্রদর্শন সাংবাদিকদের
প্রশ্ন শুনে পালালেন ইউএনও সহ কর্মকর্তা ।
মেলায় আসায় মমিনপাড়া গ্রামের পশু খামারী মোঃ রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি মেলা সম্পর্কে বলেন আমার গরুর খামার স্টলটা শ্রেষ্ট ছিলো।কিন্তু পুরুস্কারটা দেওয়ার কথা আমাকে পেলাম মাত্র ২শত টাকা ।

বৃহস্পতিবার ১৮ এপ্রিল সকাল ১১ টায় ‘প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ উপজেলাে পরিষদ চত্বরে মাঠে উদ্ধোধন করা হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন
তেতুলিয়া থানা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কাজী মাহবুবুর রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপজেলা
কৃষি কর্মকর্তা মোছাঃ তামান্না ফেরদৌস
সহকারী কমিশনা ভুমি মাহবুবুল হাসান
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ফজলে রাব্বি এর সভাপতিত্বে এ মেলা উদ্বোধন কর হয়। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তিনি এ প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ ও প্রদর্শন সফল দাবী করলে ও তেমন প্রচারনা ছিলো না।উপজেলার আসেপাশে থাকা প্রানীসম্পদ কর্মচারীদের স্বজনপ্রীতি তালিকায় শুধুমাত্র এ মেলায় আয়োজন করা হয়ে থাকে অভিযোগ।সে সময়ে মেলায় উপস্থিত কৃষক তাদের প্রাণী নিয়ে এসে পড়েন চরম বিপাকে৷

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মেলায় ৫০ টি স্টল থাকার কথা থাকলেও স্টল ছিল মাত্র ৪৮ টি। এছাড়া একটি স্টলে একাধিক প্রাণী থাকলেও দেয়া হয় ২০ টাকার দরের এক আটি ঘাস ও এক কেজি ভুসি৷ খাবার পানি সরর্বারহ না করা হলেও দেয়া হয়েছে নিন্ন মানের বালতি ও গামলা। ফলে কয়েক ঘন্টা ধরে নাম মাত্র ঘাস ও ভুসি দিয়ে খামারিয়া গরু ও মহিষদের স্টলে রাখে৷ ফলে বিভিন্ন স্টলে থাকা গরু ও মহিষসহ বিভিন্ন প্রাণী ক্ষুধায় ছটপট ও হাঁকডাক করতে দেখা যায়৷ বাড়ি ফেরার পথে অনেক গরুও ক্লান্ত ও অসুস্থ হয়ে পড়ে বলে দাবী খামারিদের।

এছাড়া স্টলে দেখা যায় কর্মকর্তাদের পরিচিত লোকদের৷ মেলায় শুধু একটি ইউনিয়নের খামারীরা অংশ নিয়েছ। প্রচারণা না থাকায় বাকি ৬টি ইউনিয়নের খামিরারা মেলা বিষয় জানেন না৷ নেই তেমন মানুষের উপস্থিতি। মেলায় আসা গরু খামারীরা এ মেলা ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।ব্যানারে দুই দিন লিখা রয়েছে (১৮- ২২ এপ্রিল) অথচ মেলা বেলা ১১ টায় উদ্ধোধন হয়ে দুপুরের মধ্যে সমাপনী হয় মেলার৷

অন্যদিকে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা খামারীরা সকাল সকাল মেলায় অংশ নিলেও তাদের দেয়া হয়নি সকালের নাস্তা৷ দুপুরের খাবারের টোকেন দিলেও দীর্ঘক্ষন অপেক্ষা করিয়ে রাখার পর ভাতের প্যাকেট দেয় হয় তাদের। তবে ভাতের সাথে দেয়া হয়নি পানি৷ ফলে পানির অভাবে ক্ষুধার্ত পেটে অনেকেই ভাত খেতে পারেননি। তবে অনেকে প্রাণীর পাশে বাধ্য হয়ে পানি বিহীন ভাত খেতে বসেন। এছাড়াও মেলায় অংশ নেয়া খামারির কোন কথা শোনা হয়নি বলেও জানান তারা৷

এবিষয়ে মেলায় অংশ নেয়া খামারী আব্দুর রউফ বলেন,আমও সকালে মেলায় আমার গরু নিয়ে আসলে মাত্র এক আটি ঘাস আর এক কেজি ভুসি ও একটি বালতি দেয়। এত বড় একটা গরুর এই খাবারে কিছুই হয় না৷ নেই পানির ব্যবস্থা৷ ক্ষুধার্ত পেটে গুরুগুলো ছটপট করায় আমি বাধ্য হয়ে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছি।

একই অভিযোগ করেন উপজেলা সদরের বাগানপাড়া এলাকা থেকে মহিষ নিয়ে আসা খামারি মো: মমিন ,তিনি বলেন,আমাদের মহিষের জন্য যে খাবার দিয়েছে তা দেয়া মাত্রই শেষ হয়েছে৷ না খেয়ে মহিষগুলো ক্লান্ত হয়ে পড়েছে৷ কেউ এসে খবনও নেননি৷

মহিষ নিয়ে আসা মো: রফিক জানান,দুটা মহিষের খাবার দেয় এক আটি ঘাস৷ আমরা কোন সহযোগীতা পাই না প্রাণী সম্পদ অফিস থেকে৷ আমার বাসায় সরকারী ডাক্তার গেছে তারপরও ৫শ টাকা ফি নিয়েছে আমার কাছে৷

এদিকে গরুষ আকুতি দেখে বাজার থেকে ঘাস কিনে এসে খাওয়ার খামারি রফিকুল ইসলাম, তিনি বলেন,আমার গরুকে আমি অনেক যত্ন। মেলায় নিয়ে আসার পর যে ঘাস ও ভুসি দিয়েছে সেগুলো দেয়ার সাথে সাথে শেষ হয়ে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে আমি বাজার থেকে ঘাস কিনে আনলাম৷ তবে মেলায় যেমনটা করা হলো এটা ঠিক হয়নি।

একই অভিযোগ করেন তেঁতুলিয়ার তেলিপাড়া এলাকার খামারি শহিদুল্লাহ,তিনি বলেন,মেলায় আসে আমাদের গরুর অবস্থা খারাপ। এভাবে অনেক্ক্ষণ না খেয়ে থাকায়রুরা যেমন ক্লান্ত,আমরাও ক্লান্ত৷

মেলায় ছাগল নিয়ে আসা তরুণ আহসান হাবিব বলেন,যারা গরু ও মহিষ মেলায় নিয়ে আসেন তাদের স্টল প্রতি ৩শ ৫০ টাকা এবং যারা ছাগল,কবুতর নিয়ে গেছিলো তাদের স্টল প্রতি ২শ টাকা করে বরাদ্দ ও একটা ভাতের প্যাকেট দেয়া হয়েছে৷ আমি ৭টি ছাগল নিয়ে গেছিলাম তার জন্য ২শ টাকা পেয়েছি৷ প্রাণীগুেলো যাতায়াত ভাড়া অনেকে দ্বিগুণ খরচ হয়েছে। সারাদিন কাজকর্ম না করে মেলায় বসে দিনটা গেল৷ এটা উচিত হয়নি৷

এদিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ইউনুস আলীর কাছে মেলার অব্যবস্থাপনা,খামারিদের দুর্ভোগের কথা ও মেলায় অংশ নেয়া খামারিদের জন্য বরাদ্দের কথা জানতে চাইলে তিনি গনমাধ্যম কর্মীদের প্রশ্ন ক্যামেরা থেকে সরিয়ে গিয়ে মঞ্চে উঠে বসে থাকেন৷ তবে আয়োজনের সাথে দায়িত্ব প্রাপ্তরা বলছেন মেলার যাবতীয় বিষয়ে তদারকি করেন এই কর্মকর্তা৷

এবিষয়ে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা( ইউএনও) ফজলে রাব্বি জানান, মেলার মূল উদ্দেশ্য হলো খামারিরা যেন গরু,মহিষসহ বিভিন্ন প্রাণী সম্পদ পালনে আগ্রহী হয়। সরকারের যে বিভিন্ন প্রণোদনা আসে এগুলো যেন তাদের অনুপ্রাণিত করতে পারি তার জন্য এই মেলা৷ আমরা খামারিদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনলাম আমরা চেষ্টা করব এগুলো সমাধান করার!

Facebook Comments Box
এ জাতীয় আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ ক্রাইম ২৪ বিডি
Theme Customized By Shakil IT Park