
মোঃ জাকির হোসেন জুয়েল
কুড়িগ্রাম উত্তর প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলা চত্বরের বাসিন্দা ও স্থানীয় মরহুম কাশেম প্রফেসরের দ্বিতীয় ছেলে মোঃ জীওনের বিরুদ্ধে এক ব্যবসায়ীর পাওনা টাকা পরিশোধ না করে তালবাহানা ও হুমকি-ধামকির অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নাগেশ্বরী কলেজ মোড় এলাকার ‘ইত্তাদী থাই অ্যালুমিনিয়াম’ প্রতিষ্ঠানের মালিক মোঃ মফিজুল ইসলাম সাংবাদিকদের কাছে এই অভিযোগ করেন। তার দাবি, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জীওন তার বাসার থাই জানালা ও এসএস গ্রিল বাকি নেন।
দীর্ঘদিন পার হয়ে গেলেও পাওনা টাকা পরিশোধ না করে উল্টো হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন তিনি।
খাতার হিসাব অনুযায়ী পাওনা ও জমা বিবরণী:
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর হিসাব খাতা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বিভিন্ন সময়ে কাজের মোট বিল হয়েছিল ২,০৮,৩৩৫ টাকা। এর মধ্যে বিভিন্ন কিস্তিতে জীওন মোট ৮৮,০০০ টাকা পরিশোধ করলেও এখনো ১,২০,৩৩৫ টাকা বকেয়া রয়েছে।
হিসাবের বিস্তারিত:
মোট কেনাকাটা ও কাজের বিল:
জানালা: ১,১১,১৫০ টাকা
গ্রিল: ৯৪,৭১০ টাকা
পাইপ ও অন্যান্য মালামাল: ২,৪৭৫ টাকা
মোট বিল: ২,০৮,৩৩৫ টাকা
পরিশোধের বিবরণী (জমা):
৩১/০৭/২২ তারিখে জমা: ৩০,০০০ টাকা (অবশিষ্ট: ১,৭৮,৩৩৫ টাকা)
১৭/০৮/২২ তারিখে জমা: ৩০,০০০ টাকা (অবশিষ্ট: ১,৪৮,৩৩৫ টাকা)
২৯/০১/২৫ তারিখে জমা: ৮,০০০ টাকা (অবশিষ্ট: ১,৪০,৩৩৫ টাকা)
১৮/০২/২৫ তারিখে জমা: ১০,০০০ টাকা (অবশিষ্ট: ১,৩০,৩৩৫ টাকা)
৩১/০৩/২৫ তারিখে জমা: ৫,০০০ টাকা (অবশিষ্ট: ১,২৫,৩৩৫ টাকা)
৭/০৪/২৫ তারিখে জমা: ৫,০০০ টাকা (অবশিষ্ট: ১,২০,৩৩৫ টাকা)
(নোট: বর্তমানে সব হিসাব মিলিয়ে মোট বকেয়া অবশিষ্ট রয়েছে প্রায় ১,২০,৩৩৫ টাকা)
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর বক্তব্য:
ব্যবসায়ী মফিজুল ইসলাম বলেন, “আওয়ামী ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জীওন আমার দোকান থেকে কাজ করে নেয়। এতদিন হয়ে গেলেও টাকা না দিয়ে প্রতিনিয়ত তালবাহানা করে। এমন তো অবস্থায় জিওনের প্রতিবেশী পান্না, মিঠু মাস্টার, আকরাম, জিওনকে নিয়ে একটি বৈঠকে ফয়সালা করে মাসে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও তিন কিস্তি দেওয়ার পরে টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেয়। টাকা চাইতে গেলে বিভিন্ন সময় আমাকে ভয়ভীতি ও হুমকি-ধামকি প্রদান করা হয়। ব্যবসা রক্ষা ও পাওনা টাকা উদ্ধারে আমি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জীওনের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।