
ডেস্ক রিপোর্ট:
খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলাধীন চিতলমারী উপজেলার গরিবপুর খড়মখালী সার্বজনীন কালী মন্দিরে গত ২৭ জানুয়ারি ২০২৫ রোজ সোমবার রাতে মহা ধুমধামের সাথে উদযাপিত হলো হিন্দু ধর্মীয় উৎসব রটন্তী কালি পূজা। উৎসব উপলক্ষে সোমবার সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত হাজার হাজার দর্শনার্থী মন্দিরে জড়ো হয়। পার্শ্ববর্তী দুই গ্রামের ধর্মপ্রাণ ভক্ত বৃন্দ মিলিত হয়ে প্রতি বছর এই অনুষ্ঠান পালন করে আসছে। পূজো শেষে দেশ, বিশ্ব ও মানবতার শান্তি কামনায় প্রার্থনা করা হয়। এ সময় আগত সকল দর্শনার্থী ও ভক্ত বৃন্দের মাঝে খিচুড়ি প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
বিভিন্ন তিথিতে বিভিন্ন রূপে পুজিত হন মা কালী। ভারতের দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে সারা বছরে মাত্র তিনটি কালী পুজো বড়ো করে পালন করা হয়। প্রথমটি জ্যৈষ্ঠ মাসে ফলহারিণী কালী পুজো, দ্বিতীয়টি কার্তিক মাসে দীপান্বিতা কালী পুজো আর তৃতীয়টি মাঘ মাসে রটন্তী কালী পুজো। অন্যান্য কালী পুজোর মতোই এই পুজোও মহাসমারোহে আয়োজিত হয়। কিন্তু রটন্তী কালীর উৎপত্তি হয়েছে কীভাবে জানেন? রটন্তী কালীর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শ্রীকৃষ্ণের বৃন্দাবন লীলার ও একটি গল্প।
রটন্তী কালী পুজোর উৎপত্তি:
শ্রীকৃষ্ণের বাঁশির ধ্বনি শুনে শ্রীরাধা সংসার-লোকলাজ সকলকিছু ত্যাগ করে ছুটে যান শ্রীকৃষ্ণের কাছে। শ্রীরাধার শাশুড়ি এবং ননদ জটিলা এবং কুটিলা তাঁরা এই ঘটনার সাক্ষী থেকেছেন বহুবারই কিন্তু কখনই শ্রীরাধার স্বামী আয়ান ঘোষকে তা বিশ্বাস করাতে পারেননি। মাঘ মাসের কৃষ্ণাচতুর্দশীতে অন্ধকারের মধ্যে কৃষ্ণের বাঁশির আওয়াজ শুনে শ্রীরাধিকা বাড়ি ছাড়েন। তাঁর পিছু নেন জটিলা-কুটিলা। তাঁরা কুঞ্জবনে শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে শ্রীরাধার মিলিত হওয়ার দৃশ্য চাক্ষুষ করে। আয়ান ঘোষকে প্রমাণ দিতে তাঁরা তাঁকে নিয়ে যান কুঞ্জবনে। আয়ান ঘোষ ছিলেন শক্তির উপাসক। শ্রীরাধিকা এই দেখে ভয় পাওয়ায় আশ্বস্ত করেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। আয়ান ঘোষ কুঞ্জবনে পৌঁছে দেখন তাঁর আরাধ্যা মা কালী, গাছের তলায় বসে রয়েছেন এবং নিজের কোলে তাঁর পদযুগল রেখে সেবা করছেন শ্রীরাধিকা। দেখে আপ্লুত হলেন আয়ান। এই কথাটাই রটে গেল যে তিনি মা কালীর দর্শন পেয়েছেন। শ্রীকৃষ্ণও এর মাধ্যমে বুঝিয়ে দিলেন কৃষ্ণ এবং কালীর অভেদ। মাঘ মাসের কৃষ্ণ চতুর্দশী তিথিতে মা কালীর দর্শন পাওয়ায় ওইদিনটিতে বিশেষভাবে কালীপুজোর প্রচলন শুরু হল। আর তার নাম হয় রটন্তী কালীপুজো।