
প্রতিনিধি: দুমকী, পটুয়াখালী
৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নাটকীয় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। এই পরিবর্তনের হাওয়ায় কেউ যেমন সর্বস্ব হারিয়েছেন, তেমনি কেউ কেউ তথাকথিত ‘আঙুল ফুলে কলাগাছ। ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ গত ৫ই আগস্টের আগে পাওনাদার আর ব্যাংকের ভয়ে যার দিন কাটত আত্মগোপনে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মাত্র কয়েক মাসের মাথায় সেই ব্যক্তির জীবনযাপনের রাজকীয় পরিবর্তন এখন জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। এক সময়ের ‘ঋণগ্রস্ত পলাতক’ থেকে রাতারাতি ‘কোটিপতি’ হওয়ার এই গল্প কোনো রূপকথা নয়, বরং বর্তমান সময়ের এক রূঢ় বাস্তবতা।যখন ছিলেন ঋণের ভারে জর্জরিত
অনুসন্ধানে জানা যায়, ৫ই আগস্টের আগে মোঃ মশিউর রহমান তার বাবা মা সহ ফ্যামিলির লোক বিভিন্ন ব্যাংক এবং স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে নেওয়া বিপুল অঙ্কের ঋণের দায়ে এলাকাছাড়া ছিলেন। পাওনাদারদের মামলার ভয়ে তিনি বছরের পর বছর মাসের পর মাস আত্মগোপনে ছিলেন। ব্যবসায়িক ব্যর্থতা আর রাজনৈতিক ছত্রছায়ার অভাব তাকে একপ্রকার দেউলিয়া অবস্থায় ঠেলে দিয়েছিল। ৫ই আগস্টের পর ভাগ্যের চাকা পরিবর্তন
রাজনৈতিক পালাবদলের পর দেশে যখন নতুন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মেরুকরণ শুরু হয়, তখন সেই মশিউর রহমান ভোল পাল্টে মাঠে নামেন। রাতারাতি নিজেকে একটি প্রভাবশালী মহলের ‘একনিষ্ঠ কর্মী’ বা ‘আন্দোলনের নেপথ্য কারিগর’ হিসেবে জাহির করতে শুরু করেন।উত্থানের নেপথ্যে যে কারণে রাতারাতি রাজনৈতিক বলয় পরিবর্তন করে আওয়ামী লীগ থেকে নব্য বিএনপি প্রভাবশালী হিসেবে আবির্ভূত হওয়া।বর্তমান জীবনযাপন: বিলাসিতার ছাপ
কয়েক মাস আগেও যার পকেটে মোবাইল রিচার্জের টাকা ছিল না, আজ তিনি দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন দামী ব্র্যান্ডের গাড়িতে। রাজধানীসহ দুমকী উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নে বিভিন্ন এলাকায় তার নামে-বেনামে ফ্ল্যাট ও জমির সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে। পাওনাদাররা এখন তার কাছে ভিড়তে সাহস পাচ্ছেন না, উল্টো ভয়ে অনেকে নিজেদের পাওনা টাকার দাবিও ছেড়ে দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞের মন্তব্য: > “রাজনৈতিক অস্থিরতাকে পুঁজি করে একদল সুযোগ সন্ধানী মানুষ সবসময়ই ফায়দা লোটে। যদি আইনের শাসন যথাযথভাবে কার্যকর না হয় এবং আয়ের উৎসের স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করা যায়, তবে এই ধরণের ‘নব্য কোটিপতিদের’ দাপট সমাজ ও অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি তৈরি করবে।”শূন্য থেকে কোটিপতি হওয়ার ঘটনা অনুপ্রেরণাদায়ক হতে পারে যদি তা সততার পথে হয়। কিন্তু ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক ডামাডোলকে কাজে লাগিয়ে অবৈধ উপায়ে রাতারাতি সম্পদের পাহাড় গড়া কেবল নৈতিকভাবেই স্খলন নয়, এটি দেশের স্থিতিশীলতার পথেও বড় বাধা। সাধারণ মানুষের দাবি—দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যেন এই ধরণের অস্বাভাবিক সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখে।