
প্রতিনিধি: দুমকী, পটুয়াখালী।
২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫
পৌষের হাড়কাঁপানো শীত আর ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে দেশের উত্তরাঞ্চলসহ প্রত্যন্ত গ্রামগুলো। দিনের বেশিরভাগ সময় সূর্যের দেখা মিলছে না, যার ফলে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। তবে এই শীতের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি আঘাত হেনেছে গ্রামের খেটে খাওয়া ও অসহায় মানুষের ওপর। একদিকে তীব্র ঠান্ডা, অন্যদিকে প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের অভাব—সব মিলিয়ে এক মানবিক সংকটের চিত্র ফুটে উঠছে গ্রামগুলোতে।
ছিন্নমূল মানুষের অবর্ণনীয় কষ্ট
গ্রামের বাস্তুহারা ও নিম্নআয়ের মানুষ, যারা জরাজীর্ণ কুঁড়েঘরে বা নদীর পাড়ে বসবাস করেন, তাদের জন্য এই শীত অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক পরিবারে একটি মাত্র পাতলা কাঁথা বা চাদরই চার-পাঁচজনের শীত নিবারণের একমাত্র ভরসা। রাতের তীব্রতা বাড়লে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুনের তাপ নিয়ে রাত পার করছেন অনেকে।
দুমকী উপজেলার মুরাদিয়া গ্রামের সালেহা বেগম (৬০) আক্ষেপ করে বলেন, “বাবা, রাইতে ঠান্ডায় ঘুম আহে না। বাতাস ঘরের বেড়া দিয়া সরাসরি গায় লাগে। একটা কম্বল পাইলে শান্তিতে ঘুমাইতে পারতাম।”
কর্মহীন হয়ে পড়েছে শ্রমজীবী মানুষ
তীব্র শীত আর কুয়াশার কারণে কৃষি শ্রমিকরা ভোরে মাঠে কাজে যেতে পারছেন না। বিশেষ করে বোরো চাষের মৌসুমে কাদা-পানিতে নেমে কাজ করা দিনমজুরদের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। কাজ না থাকায় অনেক পরিবারে খাদ্যাভাব দেখা দিচ্ছে। শহরের তুলনায় গ্রামে কাজের সুযোগ কম থাকায় বিপাকে পড়েছেন ভ্যানচালক ও মৎস্যজীবীরাও।
স্বাস্থ্যঝুঁকি ও ওষুধের অভাব
শীতের প্রকোপে গ্রামে ঘরে ঘরে সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। শিশুদের অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়। সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীদের ভিড় বাড়লেও দূরত্বের কারণে এবং অর্থাভাবে অনেক অসহায় মানুষ সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেন না।
পর্যাপ্ত কম্বল বা গরম কাপড়ের তীব্র সংকট।
বাসস্থানের সমস্যা: কাঁচা ঘর বা বেড়ার ফাঁক দিয়ে আসা ঠান্ডা বাতাসে ভোগান্তি।
অপুষ্টি: শীতকালীন রোগের পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবারের অভাব শরীরকে আরও দুর্বল করে দিচ্ছে।
মানুষের পাশাপাশি গবাদি পশুদের রক্ষাও এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মানবিক সহায়তার আহ্বান
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু শীতবস্ত্র বিতরণ করা হলেও তা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত সামান্য। বিত্তবান এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। যথাযথ সহায়তা না পেলে এই তীব্র শীতে অসহায় মানুষের ভোগান্তি আরও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।