
মোঃ মাসুদ রানা খোন্দকার ।
উপজেলা কালুখালী প্রতিনিধি, রাজবাড়ী ।
আজ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়-এর মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, এমপি মহোদয় তাঁর নিজ জেলা রাজবাড়ী-এ আগমন করেন। তাঁর এই সফরকে ঘিরে জেলাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
রাজবাড়ীতে পৌঁছালে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার। সার্কিট হাউসে জেলা পুলিশের চৌকস হাউস গার্ড তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন, যা ছিল অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল আয়োজন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
প্রতিমন্ত্রীর আগমনে জেলার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে আনন্দের জোয়ার বইতে থাকে। অনেকেই তাজা ফুল, ফুলের মালা ও তোড়া দিয়ে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, স্লোগান ও শুভেচ্ছা বিনিময়ে পুরো এলাকা হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে তিনি একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় অংশ নেন এবং প্রথমে রাজবাড়ী সার্কিট হাউসে এসে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন।
গার্ড অব অনার গ্রহণ শেষে তিনি ২৮ কলোনীতে গিয়ে তাঁর বাবা-মা ও প্রয়াত মেঝ ভাইয়ের কবর জিয়ারত করেন। এ সময় তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্ত্রী, সন্তান, পরিবারের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ, বড় ভাই শহ্ নেওয়াজ মাহমুদ খুররম ও বোন জেসমিন নেওয়াজসহ তাঁদের পরিবারবর্গ। জিয়ারতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্থানীয় মানুষও উপস্থিত ছিলেন।
জিয়ারত শেষে প্রতিমন্ত্রী তাঁর নিজ বাড়ি সজ্জনকান্দার উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখানে অবস্থানকালে তিনি জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এবং সাংস্কৃতিক বিকাশ, ঐতিহ্য সংরক্ষণ, যুবসমাজের সৃজনশীল সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নসংক্রান্ত নানা প্রস্তাব ও পরামর্শ গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে। এছাড়া জেলার সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা, স্থানীয় শিল্পীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনের কর্মসূচিও রয়েছে।
আগামীকাল নির্ধারিত অন্যান্য কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ শেষে তিনি রাষ্ট্রীয় সফরের অংশ হিসেবে পুনরায় ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। সফরকালে তাঁর পরিবারের সদস্যবৃন্দ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণ সঙ্গে থাকবেন।
রাজবাড়ীর গণমানুষের নেতা হিসেবে তাঁর এই সফর জেলার সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার করবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন স্থানীয়রা। উন্নয়ন ও সংস্কৃতির অগ্রযাত্রায় এ সফর এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলেও মনে করছেন সচেতন মহল।