
মোঃ মাসুদ রানা খোন্দকার ৷
জেলা প্রতিনিধি, রাজবাড়ী ৷
রাজবাড়ী শহরে বালুমহলকে কেন্দ্র করে প্রভাবশালী দুই পক্ষের সংঘর্ষে ছোড়া গুলিতে এক শিশু গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বছরের শেষ রাতে উৎসবের পরিবেশে এমন সন্ত্রাসী ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আহত শিশুটির নাম সিফাত (১২)। সে রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিনোদপুর এলাকার কলেজপাড়া মহল্লার বাসিন্দা মোঃ শফিকুল ইসলামের যমজ সন্তানের একজন। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, বালুমহল নিয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে গুলিবর্ষণের মধ্যে একটি গুলি সিফাতের পেটের উপরের অংশে, বক্ষপিঞ্জরের নিচে বিদ্ধ হয়। এতে সে গুরুতর আহত হয়ে রক্তক্ষরণে আক্রান্ত হয়।
স্থানীয়দের সহায়তায় শিশুটিকে দ্রুত রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোঃ নুরুল আজম প্রাথমিক পরীক্ষা শেষে সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. রাজীব দে সরকারকে অবহিত করেন। চিকিৎসকদের দ্রুত উদ্যোগে রিসাসিটেশন ও জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হলে শিশুটির অবস্থা স্থিতিশীল হতে শুরু করে এবং জ্ঞান ফিরে আসে।
চিকিৎসকরা জানান, শিশুটি গানশট ইনজুরি ও শক অবস্থায় ছিল। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে পরিস্থিতি প্রাণঘাতী হতে পারতো। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
আহত শিশুটির মা বলেন, সংঘর্ষের সময় বাড়ির আশপাশে ভাঙচুর ও গুলির শব্দ চলছিল। তখনই তার ছেলের গুলি লাগে। চিকিৎসকদের দ্রুত সেবায় সন্তানের প্রাণ রক্ষা পেয়েছে বলে তিনি জানান। শিশুটির বাবা বলেন, চিকিৎসা শেষে মেডিকেল সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বালুমহলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই সন্ত্রাসী তৎপরতা চললেও কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় সাধারণ মানুষ ঝুঁকিতে পড়ছে। উৎসবের রাতে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দুর্বলতাই তুলে ধরে।
সচেতন মহল অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের গ্রেপ্তার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং বালুমহলকেন্দ্রিক সন্ত্রাস বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। একটি সভ্য সমাজে বালু দখলকে কেন্দ্র করে শিশুর গুলিবিদ্ধ হওয়া রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।