
স্টাফ রিপোর্টার:
মোঃ বেল্লাল হোসেন লিমন
দুমকী, পটুয়াখালী।
পটুয়াখালী জেলার দুমকী উপজেলার এক সময়ের প্রমত্তা পীরতলা খালটি এখন মৃতপ্রায়। একপাশে অবৈধ দখল আর অন্যপাশে বাজারের ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়ে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী, কৃষক এবং সাধারণ মানুষ।
বর্তমান চিত্র: খালের বদলে আবর্জনার স্তূপ
সরেজমিনে দেখা যায়, দুমকী বাজারের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু দিয়ে বয়ে যাওয়া পীরতলা খালটি এখন আর চেনার উপায় নেই। বাজারের সকল পচনশীল বর্জ্য, প্লাস্টিক বোতল এবং পলিথিন সরাসরি খালে ফেলায় খালের তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। অনেক জায়গায় পানির বদলে শুধু আবর্জনার পাহাড় দেখা যায়। দুর্গন্ধে আশপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সমস্যার মূল কারণসমূহ
অবৈধ দখল: খালের দুপাড়ে প্রভাবশালী মহলের গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনার কারণে খালটি সরু হয়ে ড্রেনে পরিণত হয়েছে বাজারের নির্দিষ্ট কোনো ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় ব্যবসায়ীরা খালটিকেই ময়লা ফেলার সহজ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন। দীর্ঘকাল ধরে খালটি খনন বা পরিষ্কনা করায় পলি ও ময়লা জমে এর গভীরতা হারিয়ে গেছে।
জনজীবনে প্রভাব
এক সময় এই খাল দিয়ে নৌকা চলাচল করত এবং কৃষিকাজে পানি সরবরাহ করা হতো। কিন্তু এখন:
১. বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে বাজারে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
২. মশা ও মাছির উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।
৩. দুর্গন্ধের কারণে সাধারণ পথচারী ও ক্রেতাদের বাজারে আসা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের দাবি
বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত এই খালটি দখলমুক্ত করে খনন করার জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পীরতলা খালটি অচিরেই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ: পরিবেশ রক্ষা এবং বাজারের সুষ্ঠু বাণিজ্য পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে খালের সীমানা নির্ধারণ করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং বর্জ্য অপসারণ এখন সময়ের দাবি।