
বিজয় কর রতন,
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:-
ঐতিহ্য আর আধুনিক নিরাপত্তার মেলবন্ধনে পবিত্র ঈদুল ফিতরের ১৯৯ তম জামাত আয়োজনে প্রস্তুত কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ। বর্তমানে মাঠের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নতুন রং লাগানো, কাতারের দাগ টানা এবং ওজুখানাসহ অবকাঠামোগত সংস্কারের কাজ শেষ পর্যায়ে। আগামী ২০ বা ২১ মার্চ (চাঁদ দেখা সাপেক্ষে) সকাল ১০টায় শুরু হবে উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ এই ঈদ জামাত। ২০১৬ সালের অনাকাঙ্ক্ষিত জঙ্গি হামলার স্মৃতি মাথায় রেখে এবারও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সুপার এস এম ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন, মাঠ ও আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হবে। চার স্তরের নিরাপত্তা বলয়ে থাকবে বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্য। সিসি ক্যামেরা, ওয়াচ টাওয়ার, মেটাল ডিটেক্টর এবং পাঁচটি আর্চওয়ের মাধ্যমে মুসল্লিদের তল্লাশি করা হবে। মুসল্লিদের সুবিধার্থে জায়নামাজ ছাড়া অন্য কোনো ব্যাগ বা বস্তু সঙ্গে না আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দূর-দূরান্তের মুসল্লিদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ঈদের দিন ‘শোলাকিয়া এক্সপ্রেস’ নামে দুটি বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। একটি ট্রেন ভৈরব থেকে সকাল ৬টায় এবং অন্যটি ময়মনসিংহ থেকে সকাল পৌনে ৬টায় কিশোরগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসবে। জামাত শেষে দুপুর ১২টায় ট্রেন দুটি পুনরায় গন্তব্যে ফিরে যাবে। শোলাকিয়ার সুদীর্ঘকালের প্রথা অনুযায়ী, জামাত শুরুর ১৫ মিনিট আগে তিনটি, ১০ মিনিট আগে দুটি এবং ৫ মিনিট আগে একটি বন্দুকের ফাঁকা গুলি ছুড়ে নামাজের সময় ঘোষণা করা হবে। এবারের জামাতে ইমামতি করবেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ মাওলানা মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। বিকল্প ইমাম হিসেবে থাকবেন মাওলানা যোবায়ের ইবনে আব্দুল হাই। পুরো আয়োজনটি সরাসরি সম্প্রচার করবে চ্যানেল আই। ১৮২৮ সালে ইয়েমেন থেকে আগত সুফি সৈয়দ আহমেদ নরসুন্দা নদীর তীরে এই জামাতের সূচনা করেন। লোকমুখে প্রচলিত আছে, সেই জামাতে এক লাখ ২৫ হাজার (সোয়া লাখ) মুসল্লি অংশ নিয়েছিলেন, যা থেকেই আজকের ‘শোলাকিয়া’ নামের উৎপত্তি। ৭ একর আয়তনের এই মাঠে ২৬৫টি সারিতে প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার মুসল্লি মূল মাঠে এবং আশপাশের রাস্তা মিলিয়ে প্রায় ৩ লাখ মানুষ প্রতিবছর একসঙ্গে সিজদাবনত হন। কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানিয়েছেন, উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এবারের ঈদ জামাত সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসন ও ঈদগাহ কমিটি সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে।