1. admin@crimeupdate24.com : admin :
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কুড়িগ্রামে ৫৬১ মণ্ডপে আনসার-ভিডিপির নিরাপত্তা জোরদার খুলনায় পানি ও স্যানিটেশন সেবার অগ্রগতি ধরে রাখতে সমন্বিতভাবে কাজ করার উদ্যোগ নাগেশ্বরীতে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর, থানায় সাধারণ ডায়েরি। নাগেশ্বরীতে আওয়ামী লীগের দাপটে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: থাই ব্যবসায়ীর পাওনা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ এনসিপি নেতা কাফির বিরুদ্ধে মামলা। কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীরকে হত্যার ঘটনায় আটক পাঁচ আসামীকে পাঁচদিন করে রিমান্ড দিয়েছে আদালত। মিঠামইনে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরষ্কার বিতরণ। কিশোরগঞ্জের হাওরে শিশুর মরদেহ বহনকারী ট্রলারে ডাকাতি। মাদক বিক্রেতাকে ধরতে গিয়ে নিজেই এখন জেল হাজতে।

কিশোরগঞ্জের ভোট কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণ।

  • আপডেট সময় : বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ৭৪ বার পঠিত

বিজয় কর রতন,
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ঘিরে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোট কেন্দ্রে ব্যাপক নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ব্যালটসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে সদর উপজেলা অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গন থেকে এই বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.কামরুল হাসান মারুফের উপস্থিতিতে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারদের নিকট নির্বাচনী সামগ্রী তুলে দেয়া হয়। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার নিজ নিজ ভোট কেন্দ্রের ব্যালট পেপার, খালি ব্যালট বক্সসহ আনুষঙ্গিক সামগ্রী বুঝে নিয়ে স্বাক্ষর করেন। নির্বাচনী সরঞ্জামাদি বিতরণের পুরো সময় সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধ্বতন সদস্যরা উপস্থিত থেকে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার, পুলিশ সদস্য এবং আনসার সদস্যরা উপস্থিত হয়ে নির্বাচনী সরঞ্জামাদি বুঝে নিয়ে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা প্রহরায় নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রের উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিশোরগঞ্জ জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় মোট ভোটকেন্দ্রের একটি বড় অংশকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন ও প্রশাসন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কিশোরগঞ্জ জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার মোট ৯১৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬৭ শতাংশ কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ও ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৩৮টি ভোটকেন্দ্রকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৩৭৪টি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তবে এতসংখ্যক কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নির্বাচন নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং মাঠপর্যায়ে সকল বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। কিশোরগঞ্জ জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, এ জেলায় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার তীব্রতা, পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলোতে সহিংস ঘটনার অভিজ্ঞতা এবং কিছু ভোট কেন্দ্রের ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় এনে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় অতীতে ভোটকেন্দ্র দখল, সংঘর্ষ, বিশৃঙ্খলা কিংবা সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, সেসব কেন্দ্রকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ জেলায় নদীবেষ্টিত ও যোগাযোগব্যবস্থা তুলনামূলক দুর্বল এমন কিছু এলাকা, পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল কয়েকটি উপজেলায় বাড়তি নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে। এসব বিষয় মাথায় রেখে প্রশাসন কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। কিশোরগঞ্জ জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৭ লাখ ২৭ হাজার। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৩ লাখ ৯৪ হাজার ১৮৫ জন, নারী ভোটার ১৩ লাখ ৩২ হাজার ৭৮৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২৮ জন। এ ছাড়া পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন ২৮ হাজার ৫৩৭ জন ভোটার। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ নির্বিঘ্ন করতে প্রতিটি কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ভোটারদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কেন্দ্রের ভেতর ও আশপাশের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ও অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে পুলিশের বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণ করা সম্ভব হয় এবং যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থাগুলো স্বচ্ছতা বাড়ানোর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নিরাপত্তা জোরদারে কিশোরগঞ্জ জেলায় বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্র জানা যায়, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে এ জেলায় ১ হাজার ৫৭৩ জন সেনাসদস্য মাঠে থাকবেন। এ ছাড়া সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ২০ প্লাটুনে দায়িত্ব পালন করবে, যেখানে প্রতিটি প্লাটুনে ৩০ জন করে সদস্য রয়েছেন। র‌্যাবের ১৩০ জন সদস্যও নির্বাচনী নিরাপত্তা ও টহল কার্যক্রমে নিয়োজিত থাকবেন। পাশাপাশি প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে ও আশপাশের এলাকায় পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। নির্বাচনের দিন ও তার আগে-পরে মাঠপর্যায়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন করছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, আচরণবিধি লঙ্ঘন রোধ এবং তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য তারা সক্রিয় রয়েছেন। একই সঙ্গে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরাও দায়িত্ব পালন করছেন । জেলা পুলিশের প্রস্তুতিও রয়েছে ব্যাপক। কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন বলেন, “নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। পুলিশ অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছে। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা সর্বত প্রস্তুত।”
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে টহল জোরদার করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, কিশোরগঞ্জ জেলার ছয়টি আসনেই পাঁচ স্তরের নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, “জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।” তিনি আরও জানান, নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক করতে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা থাকায় ভোটারদের কোনো ধরনের ভয় বা শঙ্কার প্রয়োজন নেই। কিশোরগঞ্জের ছয় আসনে সব মিলিয়ে, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা বেশি হলেও নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বাত্মক প্রস্তুতি রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই প্রস্তুতির বাস্তব প্রয়োগে ভোটারদের আস্থা কতটা অর্জন করা যায়।

Facebook Comments Box
এ জাতীয় আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ ক্রাইম ২৪ বিডি
Theme Customized By Shakil IT Park