
বিজয় কর রতন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের নিকলী ও মিঠামইন উপজেলার হাওরে নতুন পানির আগমনকে কেন্দ্র করে বাড়তে শুরুকরেছে দর্শনার্থীদের আনাগোনা। এখনো পুরোপুরি বর্ষার পানি না এলেও খোলামেলা প্রাকৃতিক পরিবেশ আর হাওরপাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখানে প্রতিদিনই বিভিন্ন জেলা থেকে আসছেন ভ্রমণপিপাসুরা।
শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার বেড়িবাঁধে হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভিড় করছেন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা হাজারো পর্যটক। বিশাল জলরাশি ও হাওরের দিগন্ত ছোঁয়া অপরূপ দৃশ্যে মুগ্ধ পর্যটকরা।
হাওরে নতুন পানি আসা শুরুর পর থেকেই নিকলী হাওর এলাকায় মানুষের উপস্থিতি বাড়তে দেখা যায়। বিশেষ করে শুক্রবার-শনিবার ছুটির দিনে বিকেলের দিকে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষের ভিড় বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কেউ সময় কাটাচ্ছেন হাওরপাড়ে, আবার কেউ ছবি তুলছেন খোলা প্রান্তরে। ঘুরতে আসা জুয়েল মিয়াসহ কয়েকজন দর্শনার্থী বলেন, শহরের যান্ত্রিক জীবন আর ব্যস্ততা থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতেই তারা নিকলী হাওরে এসেছেন। পুরোপুরি পানি না এলেও এখানকার উন্মুক্ত পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তাদের মুগ্ধ করেছে।
পর্যটকদের উপস্থিতিকে ঘিরে সড়কের পাশে অস্থায়ী বিভিন্ন দোকানও বসেছে। বেড়েছে ব্যক্তিগত যানবাহনের চলাচল। ফলে কিছু কিছু স্থানে যান চলাচলে ধীরগতি দেখা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পরিকল্পিতভাবে পর্যটন ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা গেলে নিকলী হাওর দেশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন গন্তব্যগুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে।
দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে মানুষ এখানে বেড়াতে আসছেন। পর্যটকদের আগমনে উপজেলার কয়েক হাজার মাঝিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটছে।
জানা যায়, কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চলের মধ্যে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান হচ্ছে নিকলী বেড়িবাঁধ ও মিঠামইনের ওলওয়েদার সড়ক। পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দঘন মুহূর্ত বা ছুটি কাটাতে কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার এ বেড়িবাঁধ এলাকায় ঘুরতে আসেন হাজার হাজার মানুষ। ২০০০ সালের দিকে নিকলী উপজেলা সদরকে বর্ষায় ভাঙনের কবল থেকে রক্ষায় সরকার সাড়ে ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে। এছাড়া উপজেলার ছাতিরচর গ্রামের ভাঙনরোধে রোপণ করা হয় হাজারো করচগাছ। হাওরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের জন্য সারাদেশের মানুষ বর্ষা মৌসুমে ছুটে আসে নিকলী হাওরে। তাই নিকলীকে হাওর পর্যটনকেন্দ্র বলা হয়ে থাকে। পর্যটকদের আনন্দ উল্লাস বাড়িয়ে দিতে এখানে রয়েছে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা। এখানে হোটেল, রেস্তোরায় মিলছে রুচিসম্মত সব ধরনের খাবার। এছাড়া রয়েছে মাটির বানানো হাতি, ঘোড়া, মুরগীসহ সব ধরণের খেলনা সামগ্রী। রাস্তার পাশে অস্থায়ী মুড়ি, ফুচকা, বুট, বাদাম, চটপটির দোকান। যা স্থানীয় অনেকের বেকারত্ব দূর করেছে। যাতায়াতের জন্য রয়েছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন। এতে একদিকে যেমন দূরদূরান্ত থেকে পর্যটকরা আনন্দ উপভোগ করতে পারছে অন্যদিকে বেকার যুবকদের মিলছে কর্মসংস্থান। এখানকার স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন শতশত মানুষ বেড়িবাঁধের সৌন্দর্য দেখতে আসছে। বর্ষার ভরা মৌসুমে বিস্তীর্ণ হাওরের জলরাশির ঢেউ আছড়ে পড়ে নিকলীর বেড়িবাঁধে। স্থানীয় তরুণরা আগত দর্শনার্থীদের আনন্দ দিতে প্রবাহমান ঢেউয়ে নানা শারীরিক কৌশল দেখান। নিকলী উপজেলা জিসাস এর আহ্বায়ক বিএনপি নেতা মো. মিয়া হোসেন বলেন, পবিত্র ঈদুল উল আযহার দিন থেকে নতুন পানির আগমনে কয়েক হাজার পর্যটক নিকলী বেড়িবাঁধ সংলগ্ন হাওরে ঘুরতে আসছেন। তাদের আগমনে আমরা খুবই আনন্দিত। উপজেলার প্রায় ১৫-২০ হাজার মানুষ বর্ষা মৌসুমে পর্যটন কেন্দ্রীক জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। পর্যটকদের জন্য যেন হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে সেদিকে স্থানীয় সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসন সজাগ দৃষ্টি রাখেন।
নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও রেহানা মজুমদার মুক্তি জানান, হাওরে নতুন পানি আসতে শুরু করায় নিকলীতে পর্যটকদের আগমন বেড়েছে। পর্যটকদের সুবিধার্থে বেড়িবাধঁ এলাকায় সিভিল এবং পোশাকধারী পুলিশ সদস্যরা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দিচ্ছেন। নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে ভ্রমণের জন্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত সব ধরনের সুবিধা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দর্শনার্থীদের দেওয়া হচ্ছে।