
স্টাফ রিপোর্টার,
দুমকি (পটুয়াখালী)
দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের এই বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যেখানে সরকার সাশ্রয়ী হওয়ার কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছে, সেখানে পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নে সেই আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছে জমকালো ফুটবল টুর্নামেন্ট। মুরাদিয়ার ‘নব দিগন্ত ক্লাব’ আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক বাল্ব জ্বালিয়ে খেলা পরিচালনা করার খবর পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মুরাদিয়া ইউনিয়নের কলবাড়ি বাজার সংলগ্ন স্থানীয় একটি মাঠে ‘নব দিগন্ত ক্লাব ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬’ আয়োজিত হচ্ছে। গ্রামীণ এই জনপদে ফুটবলকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা থাকলেও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে খেলার সময় ও আলোকসজ্জা নিয়ে। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত মাঠের চারপাশে অসংখ্য ফ্লাডলাইট ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক বাল্ব জ্বালিয়ে এই খেলা চালানো হচ্ছে।সরকারি নির্দেশনার লঙ্ঘন
উল্লেখ্য যে, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের কারণে বাংলাদেশ সরকার বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে রাত ৮টার পর দোকানপাট, বিপণিবিতান ও অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা বন্ধ রাখার সুস্পষ্ট নির্দেশনা জারি করেছে। সরকারি এই কঠোর আদেশের মধ্যেই এভাবে মধ্যরাত পর্যন্ত ফুটবল মাঠ আলোকিত রাখা সচেতন মহলে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয়দের মতে, যেখানে সাধারণ মানুষ লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে ভোগান্তি পোহাচ্ছে, সেখানে খেলাধুলার নামে এমন বিদ্যুৎ অপচয় কোনোভাবেই কাম্য নয়।
জনদুর্ভোগ ও প্রতিক্রিয়া
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, “সরকার যখন বিদ্যুৎ বাঁচাতে বলছে, তখন এখানে রাতভর বাল্ব জ্বালিয়ে ফুটবল খেলা হচ্ছে। এতে করে স্থানীয় ট্রান্সফরমারের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে এবং লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।”
নব দিগন্ত ক্লাবের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সন্তোষজনক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আয়োজকদের দাবি, তরুণ সমাজকে মাদক ও বিপথ থেকে দূরে রাখতেই এই টুর্নামেন্টের আয়োজন। কিন্তু বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সরকারি আদেশের বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট নয়।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর তদারকি ও বিদ্যুৎ অপচয় রোধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন নাগরিক সমাজ। জাতীয় এই সংকট মুহূর্তে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের খেয়ালখুশি মতো সরকারি আদেশ অমান্য করা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হওয়া উচিত বলে তারা মনে করেন।