
ডেস্ক রির্পোট:
মাঠে সোনালী ধানের স্বপ্ন, বাম্পার ফলনের আশা কৃষকের। কিন্তু তারপরেও এ বছর প্রচন্ড ঝুঁকিতে রয়েছে কৃষক।
এ বছর সারা দেশে বোরো ধানের অবস্থা বর্তমানে খুব ভালো অবস্থায় রয়েছে। এখনো পর্যন্ত রোগ পোকা মাকড়ের তেমন কোনো আক্রমণ পরিলক্ষিত হয় নি। এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন আশা করছে কৃষক ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। দেশের কিছু কিছু এলাকায় আর কয়েকদিনের মধ্যেই বোরো ধান কাটা শুরু হবে। যে সব এলাকায় আগাম চাষ করা হয়েছে সে সকল এলাকায় ধান সোনালী রঙ ধারণ করেছে। আর এই সোনালী রঙ কৃষকের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। সেই হাসির মধ্যেও লুকিয়ে রয়েছে আশঙ্কা। চলতি বছর দীর্ঘ কয়েক মাস বৃষ্টিপাত হয় নি, সেই সাথে শুরু হয়েছে তাপদাহ ও প্রচন্ড গরম। আর এটাই কৃষকের আশঙ্কার কারণ। যে কোনো মুহূর্তে কাল বৈশাখী ঝড়, শিলাবৃষ্টি, বজ্র বৃষ্টি শুরু হতে পারে। ধান পাকা, কাটা ও ঘরে তোলার মুহূর্তে এ ধরনের প্রাকৃতিক দূর্যোগ দেখা দিলে কৃষকের ভোগান্তি ও ফসল হানির কারণ হতে পারে।
এ বিষয়ে আলাপ আলোচনা কালে কৃষিবিদ রসময় মন্ডল বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের উপর মানুষের তো তেমন কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। তবে কৃষককে আগে থেকে এ ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। E সম্পর্কে কৃষিবিদ রসময় মন্ডল কৃষকদের উদ্দেশ্যে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। পরামর্শ গুলো এখানে তুলে ধরা হলো –
# ধানের চাল শক্ত হতে শুরু করলে জমি থেকে পানি সরিয়ে দিতে হবে। পানি থাকলে ধান পাকতে দেরি হবে।
# শতকরা ৮০ ভাগ ধান পেকে গেলে ধান কেটে ফেলতে হবে।
# কৃষক অনেক সময় ধান কেটে জমিতে দুই একদিন রেখে, শুকিয়ে তারপর বাড়িতে আনে, এটা না করাই উত্তম। ধান কেটে সাথে সাথে বাড়িতে নিয়ে আসতে হবে।
# বাড়িতে এনে সাথে সাথে মাড়াই করতে হবে।
# যে সকল এলাকায় ধান রোপণ করতে দেরি হয়েছে অর্থাৎ ধান পাকতে কিছুটা দেরি হবে সেই সকল এলাকায় বাদামী গাছ ফড়িং বা কারেন্ট পোকা বা মৌয়া পোকা লাগতে পারে। এই পোকা লাগলে সমস্ত ধান ই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সাধারণত কোনো কীটনাশক দিয়ে ই এই পোকা সঠিক ভাবে দমন করা যায় না। ধান গাছের গোড়ার দিকে পর্যবেক্ষণ করে এই পোকা দেখা গেলে ৪-৬ সারি পর পর ক্ষেতে বিলি কেটে ফাঁকা করে দিতে দিতে হবে এবং গোড়ার দিকে কীটনাশক স্প্রে করতে হবে।
# এ ছাড়া যে কোনো বিষয়ে স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি অফিসারের সাথে ও উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করতে হবে।
বোরো ধানের বাম্পার ফসল নির্বিঘ্নে ঘরে তুলতে কৃষকদের উক্ত পরামর্শ মেনে চলার জন্য আহ্বান করা যাচ্ছে।