
মোঃ জাকির হোসেন জুয়েল
কুড়িগ্রাম উত্তর প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ডাকনীরপাঠ বাজারে গরুর গোশত বিক্রি কেন্দ্র করে সৃষ্ট জটিলতা স্থানীয়ভাবে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে একটি মহলের অপপ্রচারের কারণে আবারও এলাকায় উত্তেজনা ছড়ানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ডাকনীরপাঠ বাজারটি একটি মন্দিরসংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী বাজার। বাজারের আশপাশে অধিকাংশ হিন্দু সম্প্রদায়ের বসবাস এবং প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে সেখানে গরুর গোশত বিক্রির প্রচলন ছিল না। স্থানীয়দের মতে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার স্বার্থেই এ প্রথা অনুসরণ করা হয়ে আসছে।
সম্প্রতি এক ব্যবসায়ী মন্দিরসংলগ্ন একটি দোকানে গরুর গোশত বিক্রি শুরু করলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হলে নাগেশ্বরী থানা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে।
পরে উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হয়। গত মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও মার্কেটের মালিক থানায় উপস্থিত হয়ে জানান, পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে। মার্কেটের মালিক আজিজুল হক বলেন, এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতির কথা বিবেচনায় নিয়ে তার মার্কেটে আর গরুর গোশত বিক্রি করা হবে না।
নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহিল জামান জানান, বৈঠকে মার্কেট মালিক নিজ উদ্যোগেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং এতে কোনো ধরনের প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক চাপ ছিল না।
ভিতরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শফিউল আলম শফি বলেন, মন্দিরসংলগ্ন হওয়ায় ঐ বাজারে দীর্ঘদিন গোশত বিক্রি হয়নি। হঠাৎ করে বিক্রি শুরু হওয়ায় স্থানীয়ভাবে গুঞ্জন তৈরি হলেও পরবর্তীতে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান হয়েছে।
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও দুই সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ঐতিহ্য ও সম্প্রীতি রক্ষার স্বার্থে ব্যবসায়ীকে বিকল্প ব্যবসা করার অনুরোধ জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীও ভবিষ্যতে সেখানে গোশত বিক্রি না করার প্রতিশ্রুতি দেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিষয়টি ইতোমধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে মীমাংসা হলেও একটি মহল বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পরিস্থিতিকে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তারা মনে করেন, এ ধরনের অপপ্রচার বন্ধ করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ইতিবাচক দৃষ্টান্তগুলোকে উৎসাহিত করা প্রয়োজন। অন্যথায় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।